সিবিএন ডেস্ক;
বান্দরবানের লামা উপজেলায় গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও শিশুদের একমাত্র শিক্ষা কেন্দ্র ‘পাড়াকেন্দ্রে’ আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাড়াকেন্দ্রে থাকা শিশুদের বই-খাতা, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ পুড়ে গেছে। এতে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুইট্যাঝিরি পাড়ায়। অভিযুক্ত যুবকের নাম আবুল হোসেন (প্রকাশ আবুল)। এ ঘটনায় সুবিচার ও জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুল কালাম।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে আবুল হোসেন মদ্যপ অবস্থায় একটি বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ঘরের বাতি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ঘরে থাকা নারীদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে পুইট্যাঝিরি পাড়ার শিশুদের শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত ‘পাড়াকেন্দ্রে’ আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আগুনে কেন্দ্রটি পুরোপুরি পুড়ে না গেলেও ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, আলমারি, শিশুদের বই-খাতা ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও তিনি তা মেনে চলেননি। বরং স্থানীয়দের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দীপেন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে পাড়াকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশের একটি তদন্ত দল কাজ করছে।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পাড়াকেন্দ্রটি দ্রুত পুনর্গঠন, শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
